উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের কৌশল নির্ধারণী আলোচনা, জুলাই ২০১৭

উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আপনারা ইতিমধ্যেই জানেন গত ৩ মাস ব্যাপী উইকিমিডিয়ার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বা কৌশল কি হবে সেটি নির্ধারণী আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে আমাদের বাংলাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সম্প্রদায় থেকে তাদের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সময়ে সম্প্রদায়ের বাইরে আমাদের পাঠক ও বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকদের কাছ থেকেও মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পর্বে সম্প্রদায়ের বাইরের মানুষদের এই মতামতের উপর নির্দিষ্ট থিমে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের অন্যান্য উইকিমিডিয়া চ্যাপ্টারের মত উইকিমিডিয়া বাংলাদেশর গুগল হ্যাংআউটে উইকিমিডিয়া আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণী একটি অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

  • সময়: ১৫ই জুলাই ২০১৭; বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা থেকে ৯:৩০ পর্যন্ত।
  • নথি তৈরি করেছেন: নাহিদ সুলতান, সেক্রেটারি
  • অংশগ্রহণকারী:
  1. নাহিদ সুলতান
  2. শাবাব মুস্তাফা
  3. নুরুন্নবী চৌধুরী (হাছিব)
  4. মোস্তাফিজুর রহমান সাফি
  5. মুহাম্মাদ মাসুম
  6. প্রত্যয় ঘোষ
  7. আফিফা আফরিন
  8. নাহিদ হোসেন
  9. আলী হায়দার খান
  10. তানভির মোর্শেদ

আলোচনার বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

প্রথম বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

আমাদের উইকিমিডিয়ার সব প্রকল্পই পশ্চিমাদের মত করে লিখিত এবং পশ্চিমা ধাঁচের বিশ্বকোষ সারা বিশ্বের সবার জ্ঞান সংগ্রহের আগ্রহ পূরণ করতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উইকিপিডিয়াসহ অন্য প্রকল্পগুলো একটি নির্দিষ্ট তথ্যের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশদ তথ্য প্রদান করে কিন্তু বর্তমান যুগের পাঠকগণ ইন্টারনেটে একটি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য অনুসন্ধান করেন। একইসাথে পাঠকগণ কোন একটি বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যবহুল বিষয়বস্তু অনুসন্ধান করেন। পাঠকের চাহিদা চিন্তা করে, উইকিপিডিয়াসহ অন্য প্রকল্পগুলো কিভাবে পরিবর্তনশীল বিশ্বে খাপ খেতে পারে বা আমাদের করণীয় কি হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

  • নাহিদ সুলতান: আমরা যেহেতু বিশ্বকোষ লিখছি তাই আমাদের বর্তমান মডেলটি পরিবর্তন করা উচিত নয়। কারণ বিশ্বকোষের কাজই হলো কোন বিষয়ে বিশদ তথ্য প্রদান করা, তা না হলে এটি বিশ্বকোষের মর্যাদা হারাবে। যারা তথ্য সংগ্রহ করবে তারা এমনিতেই বিশদ তথ্য সংগ্রহ করবে। যদি নিতান্তই অন্য দলের জন্য চিন্তা করতে হয় সেক্ষেত্রে নতুন কোন প্রকল্প তৈরি করা যেতে পারে।
  • শাবাব মুস্তাফা': নিবন্ধের গঠন কিছুটা পরিবর্তন করে বা ভূমিকাংশ পরিবর্তন করে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যসমূ রাখা যেতে পারে।
  • মাসুম: উইকিপিডিয়ায় গুগল নলেজ গ্রাফের মত ব্যবস্থা করা। কি-ওয়ার্ডভিত্তিক সার্চের ব্যবস্থা করা যেতে পারে যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নিবন্ধের তথ্যছক থেকে সংক্ষিপ্ত তথ্য নিয়ে পাঠকের প্রয়োজন অনুসারে উপস্থাপণ করতে পারে।

দ্বিতীয় বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

বিশ্বব্যাপী জ্ঞান বিনিময়ের ধরণ পরিবর্তন হয়ে আরও বেশি সামাজিকতা লাভ করেছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, বর্তমানে তরুনরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপ ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি বেশি ব্যবহার করেন সেটির মাধ্যমেই তাদের বন্ধু-বান্ধবের সাথে তথ্য আদান প্রদান করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এছাড়া অনেকেই সাধারণ তথ্যসূত্র ব্যবহার না করেই বাস্তব জীবনে যাদের সাথে পরিচিত তাদের দেওয়া তথ্যকেই বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন। পাঠকের চাহিদা চিন্তা করে, উইকিপিডিয়াসহ অন্য প্রকল্পগুলো কিভাবে পরিবর্তনশীল বিশ্বে খাপ খেতে পারে বা আমাদের করণীয় কি হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

  • নাহিদ সুলতান: এই বিষয়বস্তুর উপরও আমার মুটামুটি একই রকম মন্তব্য থাকবে, আমাদের বর্তমান মডেলটির জন্যই আমরা এখন পর্যন্ত টিকে রয়েছি এবং মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্ঞান আদান-প্রদান ও বিশ্বকোষে জ্ঞান আদান-প্রদান দুটি ভিন্ন জিনিস বলে মনে হয় আমার কাছে। তবে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা বাড়াতে পারি বিভিন্ন ভিডিও, অডিও ও ভিজ্যুায়াল পোস্টের মাধ্যমে ও উইপিডিয়া ব্র্যান্ডকে আরও প্রচার করার মাধ্যমে। অনেকেই উইকি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কিন্তু তারা সেটা না জেনেই করে।
  • আলী হায়দার খান: এটি অনেক পুরাতন বিষয়। আউটরিচ বাড়ানোর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে। আমরা আমাদের কনটেন্ট প্রোভাইডরদের উৎসগুলোর উপর নির্ভরশীল। সুতরাং উৎসের ক্ষেত্রে আমাদের তেমন হাত নেই।
  • প্রত্যয়: উইকিপিডিয়ার ইমেজটা ঠিক রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাকীসব এমনিতেই হবে। তবে বর্তমানে অনেকেই এই বিষয়ে অবগত নয় যে, উইকিপিডিয়াতে সব ধরণের তথ্য পাওয়া যায়।
  • আফিফা: এখানে প্রত্যয় যা বলার চেষ্টা করছিলো সেখান থেকে আমার মনে হয়েছে যে উইকিপিডিয়ার ইমেজটা অনেক বেশি গুরুগম্ভীর। মানে মানুষ মনে করে শুধু পড়াশোনার জন্যই এটা ব্যবহার করা যাবে। এই ইমেজটার জন্য অনেকেই রিলায়েবল সোর্স হলেও তথ্যের জন্য উইকিপিডিয়ায় ঢু দেয়না সেক্ষেত্রে আমরা যদি এটাকে একটা ফ্রেন্ডলি লুক দিয়ে উপস্থাপন করতে পারি, মানে এখানে যে সুচ থেকে অ্যাঞ্জেলিনা জেলি নিয়েও জানা যায় সেটা সবার সামনে নিয়ে আসতে পারি সেক্ষেত্রে উইকিপিডিয়া আরো বেশি ব্যবহারকারী পাবে।

তৃতীয় বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

বর্তমানে আমরা নির্ভরযোগ্য উৎস বলতে বুঝি কোন একটি লিখিত উৎসকে। কিন্তু পৃথিবীর অনেক স্থানে লিখিতভাবে জ্ঞান লিপিবদ্ধ নেই এবং সেগুলো মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। এক্ষেত্রে আমরা যদি সেসব তথ্য যুক্ত করতে চাই সেক্ষেত্রে কি করতে পারি? গবেষকরা মনে করেন, মৌখিক জ্ঞানকেও উইকিপিডিয়াতে যুক্ত করা উচিত।

  • নাহিদ সুলতান: বাস্তবতার কথা চিন্তা করে কিছু জিনিস ছাড় দিতেই হবে। আমরা ছোট একটি ওয়েবসাইট থেকে আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছেছি কারণ মানুষ তথ্য বিশ্বাস করে কারণ আমরা উৎস সহকারে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেই। এখন বিতর্কের খাতিরে ধরা যাক, মৌখিক জ্ঞান যুক্ত করা হল তখন সমস্যা সৃষ্টি হবে, এটা নিয়ে যে আপনি কার কথা বিশ্বাস করবেন নিশ্চিতভাবেই আমরা সতন্ত্র ব্যক্তিকে বিশ্বাসের ক্ষেত্রে কোন থ্রশহোল্ড সেট করে দিতে পারবো না। যে কেউ চাইলেই বলবে এবং সেটা বিশ্বাস করে লিখতে হবে। সুতরাং তখন উইকির বিশ্বাসযোগ্যতাটা আর থাকবে না। তবে, এক্ষেত্রে একটা কাজ করা যেতে পারে, এক্সটার্নাল পার্টনারদের সাথে কাজ করা যেতে পারে। স্থানীয় কোন সংস্থা যদি মৌখিক জ্ঞানগুলো কোনভাবে লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা করতে পারে তখন আমরা সেগুলো দেখেশুনে উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে পারবো কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটা কোনভাবেই প্র্যাক্টিকাল নয়।
  • শাবাব: নেতিবাচক। নাহিদ সুলতানের সাথে একমত এবং বাড়তি হিসেবে বলতে চাই, ১। মৌখিক জ্ঞানের উৎস যাচাই করা সমস্যাসংকুল ২। ভিডিও ও অডিও আকারে কমন্সে আপলোড করা ৩। ভিডিও বা অডিও আকারে থাকা তথ্য সার্চ করে পাওয়া চ্যালেঞ্জিং।
  • টীকা: এই বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সবাই প্রায় একই ধরণের মতামত দিয়েছেন।

চতুর্থ বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটের আধিক্যের কারণে তথ্য প্রচুর আদান প্রদান হচ্ছে, একই সাথে ভুল তথ্যও ছড়িয়ে পরছে। তথ্য বিনিময়ের এই যুগে কিভাবে আমরা এসব উৎস থেকে নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজে বের করতে পারি?

  • হাছিব: সরকার নিবন্ধিত সংবাদপত্রের ওয়েবসাইটগুলোকে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে।
  • আলী হায়দার খান: একটি নির্দষ্ট গাইডলাইন ফ্যাক্ট চেক করার জন্য তৈরি করা উচিত।
  • শাবাব: ফ্যাক্ট চেকের জন্য আউটরিচ করার জন্য ফাউন্ডেশনকে প্রস্তাব দেওয়া।
  • আফিফা: এটি নিবন্ধ নির্মাতার উপর নির্ভর করছে।