বিষয়বস্তুতে চলুন

নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচন ২০২৬/প্রার্থী/শাবাব মুস্তাফা

উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ থেকে

শাবাব মুস্তাফা
শাবাব মুস্তাফা
Shabab Mustafa
সদস্য নম্বর: WMBD-FM-005
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
tarunno

প্রার্থীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আমি উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এছাড়াও আন্তর্জাতিক উইকি আন্দোলনের বেশ কিছু কমিটি এবং উপ-কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছি। বাংলা কম্পিউটিং জনপ্রিয়করণ আন্দোলনে কর্মী হিসেবে, বাংলাদেশের লিনাক্স সম্প্রদায়ে নেতৃস্থানে কাজ করেছি। এসকল দায়িত্ব পালনকালে সম্মুখ সারির কর্মঅভিজ্ঞতা, উইকি-আন্দোলন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনী জ্ঞান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সঞ্চিত হয়েছে। নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হলে অর্জিত জ্ঞান এবং আস্থা কাজে লাগিয়ে সংগঠনের কাজ অতীতেও এগিয়ে নিয়ে এসেছি এবং এর ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যেতেও এগিয়ে নিতে পারব বলে আশা করছি।

প্রার্থী পূর্বে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রশ্ন: উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে উইকিমিডিয়া আন্দোলনে অনলাইন ও অফলাইনে আপনি অতীতে এবং বর্তমানে কী কী ভূমিকা পালন করেছেন? পূর্বে কোনো দায়িত্ব বা নেতৃত্বমূলক অবস্থান থাকলে তা উল্লেখ করুন।

আমি ৭টি মেয়াদে (২০১২-২০২৫) নির্বাহী পরিষদ সদস্য, তন্মধ্যে ৩ মেয়াদে সভাপতি (২০১৮-১৯, ২০২২-২৩, ২০২৪-২৫) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার কর্মকালে আমি সংগঠনের নীতি-নির্ধারণ, কর্মপরিকল্পনা, কর্মবাস্তবায়ন, কর্মবাস্তবায়নের তত্ত্বাবধান,নথিকরণ, আন্তসংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের প্রকাশনাসমূহের তত্ত্বাবধান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেছি। এর পাশাপাশি ৫টি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি।

অতীতের ১২ বছরে (২০১২-২০২৩) মিটআপ, ওয়ার্কশপ, সম্মেলনসহ ছোট-বড় ৩৫-এর অধিক ইভেন্টের আয়োজক-সম্বন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছি। সেগুলো বাদেও শুধু বিগত ২ বছরে (২০২৪-২৫) পালন করা দায়িত্বের মধ্যে শীর্ষ তিনটি কার্যক্রম -

  1. বাংলা উইকিসম্মেলন ২০২৪ - মূখ্য আয়োজক
  2. বাংলার প্রেমে উইকি আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ২০২৪ এবং ২০২৫ - ধারণা উন্নয়নকারী এবং আয়োজক (২ বছরে যোগ হওয়া ছবির সংখ্যা ৩,৭২১)
  3. উইকি লিডার্স ট্রেনিং ২০২৫ - আয়োজক ও প্রশিক্ষক
এছাড়াও উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের নিয়মিত কাজ যেমন; নীতিনির্ধারণ, কর্মপরিকল্পনা, কর্ম সমন্বয় ও তত্ত্বাবধানের কাজেও নিয়োজিত ছিলাম। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানার জাদুঘরের সংগ্রহ ডিজিটাইজ করে কমন্সে আনার প্রকল্পের সাথে যুক্ত হয়ে প্রসেস স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের কাজ করছি এবং উইকি স্কলার প্রোগ্রামের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছি।

প্রশ্ন: নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হলে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে উইকিমিডিয়া আন্দোলনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আপনি ভবিষ্যতে কী ধরনের কার্যক্রম, উদ্যোগ বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান তা ব্যাখ্যা করুন।

বিগত নির্বাচনের ইশতিহারে আমার অন্যতম অঙ্গীকার ছিল অর্থায়নের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে কাজ করা। নানাবিধ প্রয়াসের ফলে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশে উইকিমিডিয়ার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও শেষ কথা নয়। বর্তমানে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ একটি বড় পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। উইকিমিডিয়া বাংলাদেশকে টেকসই পন্থায় এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন প্রয়োজন দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা। কার্যক্রমের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

সাংগঠনিকভাবে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবাই উইকিমিডিয়া আন্দোলনের প্রাণ। অপরদিকে বাস্তবতা হচ্ছে ১০০% স্বেচ্ছাশ্রমে কোন প্রতিষ্ঠানকে বড় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা দুসাধ্য। আবার প্রতিষ্ঠানের সম্প্রারণ করতে গিয়ে এর স্বেচ্ছাসেবার দর্শন বিচ্যুতি ঘটার আশংকাও অমূলক নয়। এখানে যত্নের সাথে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যাবশ্যক। যুৎসই নীতিমালা প্রণয়ন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে এই ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। সেইসাথে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা প্রবাহের (organizational knowledge and experience transfer) প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে বিশেষ মনোযোগ দিলে টেকসইভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

নির্বাচিত হলে আমার অতীতের ১৪ বছরের সঞ্চিত প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজ লাগিয়ে আগামী দুই বছর অন্যান্য নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষভাবে এই বিষয়গুলিতে মনোযোগী হতে ইচ্ছুক।


সদস্যদের প্রশ্ন

[সম্পাদনা]

ROCKY-এর প্রশ্ন

[সম্পাদনা]

আপনার অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে দীর্ঘ মেয়াদী কোন পরিকল্পনা নেয়ার পরিকল্পনা আপনার আছে কি? থাকলে সেটার বাস্তবায়ন কিভাবে করবেন?--রকি (আলাপ) ১২:০৫, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ (বিএসটি)[উত্তর দিন]

Delwar-এর প্রশ্ন

[সম্পাদনা]

আপনি দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাহী পরিষদে এবং একাধিক মেয়াদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দীর্ঘ নেতৃত্বকালীন সময়ে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশে যেমনিভাবে কাঠামোগত ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে বেশ অগ্রগতি হয়েছে তেমনিভাবে ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতাগুলো এখনো রয়ে গেছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করবেন কি? এবং আগামী মেয়াদে নির্বাচিত হলে এসব কাটিয়ে উঠতে পূর্বের পদ্ধতির বাইরে নতুন কী ধরনের বাস্তবিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন? --Delwar (আলাপ) ২৩:৩২, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ (বিএসটি)[উত্তর দিন]

@রকি এবং @Delwar ভাই, আপনাদের প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের দুইজনের প্রশ্ন দু’টি পরিকল্পনা সম্পর্কিত এবং অনেকাংশেই সম্পর্কিত, তাই আলাদা করে উত্তর না দিয়ে একসাথে উত্তর দিচ্ছি।
আধুনিক ব্যবস্থাপনা তত্ত্বসমূহের মধ্যে ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থাপনা তত্ত্ব (Three-Tier Management Theory) একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব। এর মূল কথা হল, একটি ভাল প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা একটি তিন স্তরের পিরামিডের মত, যার শীর্ষে থাকে শীর্ষস্তরীয় ব্যবস্থাপনা দল যারা মূলত কৌশলগত দিকনির্দেশনা (Strategic direction) নিয়ে কাজ করে, মধ্যম স্তরের ব্যবস্থাপনায় থাকে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কৌশল ব্যবস্থাপনা দল (Tactical direction) এবং নিচের দিকে থাকে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনা দল (Operational team). উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিকাঠামোতে বর্তমানে এই বিভাগগুলো এইরকম সুসজ্জিত নয়। অর্থাৎ যিনি বা যারা কাজ করেন তারা এর প্রায় সবকাজই করেন। ফলে এখানে কর্মভারোর সুষমভাবে বন্টিত হয় না। যেহেতু অপারেশনাল কাজ খুব বেশি দৃশ্যমান থাকে তাই এই কাজের অবদানে যত মূল্যায়ন পাওয়া যায়, স্ট্রাটেজি বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মত নিভৃত কাজ নিয়ে যারা সময় ব্যয় করেন তাদের কাজের মূল্যায়ন সেভাবে হয় না। তাই মধ্যম এবং নিচের কাজ নিয়েই কাজের লোক বেশি পাওয়া যায়। সবাই সব কাজ করতে গেলে সময় ব্যবস্থাপনাও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ আমাদের সকলেরই সময় সীমাবদ্ধ। তাই অতীতে বেশি কাজ অপারেশন লেভেলেই হয়েছে।
দ্বিতীয়ত দৃশ্যমান কার্যক্রমই সংগঠনের প্রাণ। সেইসাথে আমাদের আগের মডেলে আমরা বিভিন্ন ইভেন্ট ভিত্তিক অর্থায়ন পেয়েছি। তাই পরিকল্পনার কলেবর আমাদের ইভেন্ট ভিত্তিকই বা বার্ষিক ভিত্তিতে ছিল। যার মাধ্যমে সংগঠন সচল ছিল। আর সেইসময় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ব্যাপারটিও ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেয়ার মত ব্যাপার ছিল।
আমার নিজের ব্যক্তিগত দর্শন হল এক লাফে মগডালে ওঠার চাইতে গতি ধীর হলেও ধাপে ধাপে (slow and steady) অগ্রগতি টেকসই কৌশল। এই অগ্রগতিতের ধারায় ধাপে ধাপে ইভেন্ট ভিত্তিকভাবে আমরা এগিয়েছি, যা আমাদের ভাল একটি পোর্টফোলিও গড়তে সাহায্য় করেছে এবং সেই ট্র্যাক রেকর্ডে আমরা এখন সমতল (flat-level) ব্যবস্থাপনা মডেল থেকে তিন স্তরের ব্যবস্থাপনা মডেলের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। তাতে করে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নিয়ে যারা কাজ করবেন, মাথা ঘামাবেন তাদের আর দৈনন্দিন কার্যক্রম (day-to-day operation) নিয়ে ব্যস্ত থাকার প্রয়োজন হবে না।
উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা (১০ বছর বা ততোধিক) এবং মধ্যম-মেয়াদী পরিকল্পনা (৩ এর বেশি, ১০ এর কম বছর) থাকতে পারে। বর্তমানে PEST (Politics, Economics, Society & Technology) অতি-দ্রুত পরিবর্তনশীলতার মধ্য নিয়ে যাচ্ছে। তাই আমার মনে হচ্ছে, বাস্তবিক পরিস্থিতিতে প্রথমে মধ্যম-মেয়াদী পরিকল্পনার দিকে আগানোই ভাল হবে। এই ক্ষেত্রে ৪ বছর মেয়াদী করতে আমি আগ্রহী। আমাদের ইসি যেহেতু দুই বছর মেয়াদে কাজ করে তাই ২ এর গুণিতক বছরের পরিকল্পনা করলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজতর হতে পারে।
মধ্যম-মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ এখানে নেই, তাই সংক্ষেপে পরিকল্পনার সময় প্রাথমিক কিছু বিষয় যা মাথায় রাখতে হবে তা এখানে উল্লেখ করছি।
  1. জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সাথে সামঞ্জস্য: বাংলাদেশ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ এজেন্ডা (2030 Agenda for Sustainable Development) স্বাক্ষর করেছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর থেকে জাতীয় উন্নয়ন নীতিমালায় এর প্রতিফলন ঘটছে। এতে ১৭ টি লক্ষমাত্রা (SDG) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনাও এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। প্রসঙ্গত বর্তমান SDG-এর ৪,৫ এবং ১৬ ধারার বেশ কিছু অংশ আমাদের কাজ তথা উইকিমিডিয়া আন্দোলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি আমাদের পরবর্তী ধাপের অনুমোদনের জন্য দরকার হবে।
  2. উইকিমিডিয়া আন্দোলন কৌশল ২০৩০ এর সাথে সামঞ্জস্য: উইমিডিয়া ফাউন্ডশেন প্রায় চার বছর ধরে আলোচনা করে ১০ সুপারিশের ‘উইকিমিডিয়া আন্দোলন কৌশল ২০৩০’ প্রকাশ করেছে। এই ১০ সুপারিশের সব কয়টি হয়ত এই মুহূর্তে আমাদের কাজ করার স্কোপও নেই, সেভাবে প্রয়োজনও নেই। সেখান থেকে অন্তত ৪-৫টি সুপারিশ আমাদের গাইডলাইন হিসেবে ধরে নিয়ে আমরা পরিকল্পনা সাজাতে পারি। সেগুলোর মধ্যে প্রথম পছন্দে থাকবে- Invest in Skills and Leadership Development; Manage Internal Knowledge; Ensure Equity in Decision-making; Provide for Safety and Inclusion; Evaluate, Iterate, and Adapt.
  3. যুৎসই KPI নির্ধারণ এবং পর্যবেক্ষণ কাঠামো: পরিকল্পনা ঠিকমত বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা সেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং সময়মত পরিকল্পনার অভিযোজন করার জন্য যুৎসই কিছু KPI নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
  4. স্বচ্ছ নীতিগত দর্শন: আমরা কী করতে চাই, আমার নীতির সীমারেখা কোথায় সেই বিষয়ে পরিষ্কার ধারনা থাকা পরিকল্পনায় জরুরি বলে মনে করি। অনেকে অনেক কিছু করে বা মাথায় অনেক আইডিয়া আসতে পারে যা হয়ত আমাদের নীতিগত দর্শনের সাথে নাও যেতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ ধরা যাক কেউ আইডিয়া দিল উইকিপিডিয়ানদের নিবন্ধ প্রতি আর্থিক সুবিধা দিলে নিবন্ধ সংখ্যা অনেক বাড়তে পারে। সেটা আমাদের স্বেচ্ছাশ্রম নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। এইরকম আরো অনেক বিষয় থাকতে পারে। ফলে আমাদের পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন আমাদের নীতিগত দর্শন কী, এবং এর সীমারেখা কতদূর হতে পারে।
এইরকম আরো বিষয় আছে, যা এখানে বলতে গেলে উত্তরের কলেবর আরো বড় হয়ে যাবে। হাই-লেভেল পরিকল্পনার পরের ধাপ রোডম্যাপের পরিকল্পনা। রোডম্যাপের পরিকল্পনায় থাকতে পারে কিভাবে এই চতুর্বার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে তার বিস্তারিত পরিকল্পনা। এই ধাপেই কোন ধরণের কাজ কীভাবে করা হবে তার পাশাপাশি কীভাবে দলে ভাগ হয়ে কাজগুলো সম্পন্ন হতে পারে তার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এইখানে দলের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বের সীমারেখা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, রিপোর্টিং স্ট্রাকচার, তথ্য পরিবাহী কাঠামো ইত্যাদি থাকতে পারে।
রোডম্যাপ পরিষ্কার থাকলে আমরা বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে পারব। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতির নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং তদারকির ভার ইসির উপর ন্যস্ত থাকবে।
পরিকল্পনা প্রণয়নের ব্যাপার আমার পরামর্শ হল অনধিক তিন সদস্যের একটি খসড়া পরিকল্পনা প্রনয়ণ কমিটি তৈরি করা, যাদের কাজ হবে পরিকল্পনার একটি খসড়া তৈরি। প্রাথমিক খসড়া তৈরির পর সেটা আলোচনার জন্য উত্থাপিত হবে। খসড়ার উপর মন্তব্যের উপর ভিত্তি করে সেটা চূড়ান্ত খসড়ায় পরিণত হবে। চূড়ান্ত খসড়া ইসি সদস্যরা যাচাই করে পাশ করলে সেটা উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক চতুর্বাষিক পরিকল্পনায় রূপ নেবে।
পরিকল্পনার সাথে সাথে প্রয়োজন হবে কর্মভিত্তিক নানা নীতিমালা। সেগুলোও পর্যায়ক্রমে প্রণয়নের কাজ চলমান থাকবে।
চর্তুবার্ষিক পরিকল্পনাটি খসড়া থেকে চূড়ান্ত রূপ দিতে দুইমাসের মত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছি।
মোদ্দাকথা, নির্বাচিত হলে আগামী দুই বছর আমার লক্ষ্য থাকবে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশকে একটি ৩ স্তরের কার্যকরী ব্যবস্থাপনা পরিকাঠামোতে নিয়ে আসার চেষ্টা করা, যা উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করবে বলে আমার বিশ্বাস।
ধন্যবাদ। -Tarunno (আলাপ) ২৩:৩৪, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ (বিএসটি)[উত্তর দিন]
@শাবাব ভাই বিস্তর ব্যখ্যার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। Delwar (আলাপ) ১৯:০৫, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ (বিএসটি)[উত্তর দিন]
@শাবাব ভাই, আপনার বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং দূরদর্শি চিন্তাকে সাধুবাদ জানাই। শুভকামনায়, রকি (আলাপ) ২১:১৪, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ (বিএসটি)[উত্তর দিন]