নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচন ২০২৬/প্রার্থী/আলী হায়দার খান
প্রার্থীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
আমি আলী হায়দার খান। উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে উইকিমিডিয়া আন্দোলনের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা এদেশে উইকিমিডিয়া আন্দোলনের একদম সূচনালগ্ন থেকে এবং বহুমাত্রিক। অনলাইন অবদান, বাংলাদেশে উইকিমিডিয়া আন্দোলন এবং উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের অন্যতম সংগঠক ও উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব— তিনটি স্তরেই এই আন্দোলনের শুরু থেকে জড়িত আছি। আমি উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের একজন সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। এই সংগঠনের প্রথম ট্রেজারার এবং এরপর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে আছি।
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে BBA এবং IBA থেকে MBA করেছি এবং কানাডার Queen's University থেকে ডেটা এনালিটিক্সে মাস্টার্স করেছি। পেশাগত জীবনে দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন আর্থিকখাতের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি অনেক বছর।
প্রশ্ন: উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে উইকিমিডিয়া আন্দোলনে অনলাইন ও অফলাইনে আপনি অতীতে এবং বর্তমানে কী কী ভূমিকা পালন করেছেন? পূর্বে কোনো দায়িত্ব বা নেতৃত্বমূলক অবস্থান থাকলে তা উল্লেখ করুন।
উইকিপিডিয়ার সাথে আমার যোগাযোগের শুরু ২০০৪ সাল থেকে, প্রথমে ইংরেজী উইকিপিডিয়া দিয়ে। তারপর একসময় বাংলা উইকিপিডিয়া, উইকিমিডিয়া কমন্স এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রকল্পে কাজ করা শুরু। প্রথমে শুধু নিবন্ধ লিখতাম। তবে সেসময় বাংলাদেশে ইন্টারনেটের বিস্তার ছিল কম, সেই বাস্তবতায় দেশে উইকিমিডিয়া আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও কাজ করা শুরু করি। পুরোপুরি জড়িয়ে যাই ২০০৭-২০০৮ সাল থেকে। অনলাইন কাজের পাশাপাশি অফলাইনে নিয়মিত মিটআপ, কর্মশালা, ফটোওয়াক, সমাবেশ ইত্যাদি আয়োজন করেছি। ২০১০ -১১ সালে বাংলাদেশে উইকিপিডিয়ার ১০ বছরপূর্তী অনুষ্ঠানেরও আমি সহআয়োজক ছিলাম।
২০০৮-০৯ সাল থেকে উইকিমিডিয়া আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বাংলাদেশ চ্যাপ্টার করার চিন্তাভাবনা শুরু করি সমমনা আরো কয়েকজনের সাথে। উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের উদ্যোগ গ্রহন, সংগঠন ও নিবন্ধনে অন্যতম নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছি। উইকিমিডিয়া বাংলাদেশর নিবন্ধনের জন্য শুরুতে বড় বাধা ছিল বাইলজ তৈরি করা। আমাদের তখন আইনজীবি নিয়োগ করার সামর্থ্য ছিলনা। তাই দেশে প্রচলিত এ সংক্রান্ত সব আইন, উইকিমিডিয়া ফাইউন্ডেশনের নিয়মাবলী এবং বিভিন্ন ফরপ্রফিট ও ননপ্রফিট প্রতিষ্ঠানের বাইলজ নিয়ে পড়াশোনা করে মাসখানেকের মধ্যে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের বাইলজ লিখি এবং অন্যন্য সদস্যদের মতামত নিয়ে তাতে অন্তর্ভুক্ত করি। বাইলজ প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমার বিশেষ লক্ষ্য ছিল ব্যক্তি-কেন্দ্রিকতার বাইরে গিয়ে সংগঠনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সর্বোত্তম প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা (best practices) নিশ্চিত করা - যা এখন পর্যন্ত বলবৎ আছে। পরবর্তীতে ফাউন্ডশেনর অনুমোদন এবং বাংলাদেশে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের রেজিস্ট্রেশনের কাজ করেছি তানভির রহমানকে নিয়ে। উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের নিবন্ধিত অফিস হিসেবেও আমার বাসা ব্যবহার করেছি। এখনে উল্লেখ্য, নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও জটিল ছিল এবং আমরা নিবন্ধনের কাজে সামান্যতম নীতি বহির্ভূত পন্থা অবলম্বনের বিপক্ষে ছিলাম। আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে ২ বছরের বেশি সময় ধরে চেষ্টা করে আমরা শেষ পর্যন্ত নিবন্ধনে সফল হই।
উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠাকালীন কোষাধ্যক্ষ এবং এরপর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি ২০১৮ সাল পর্যন্ত। উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের অনুমোদনের পর থেকে এর সকল অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রমের সাথে জড়িত থেকেছি এবং এ জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে কাজ করেছি। স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে নির্বাহী পরিষদের পাশাপাশি একটি অপারেশন্স কমিটি গঠন করি, যাতে কার্যক্রমের বিস্তার ও বাস্তবায়ন আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয় এবং নির্বাহী পরিষদের বাইরে অনেকগুলো নতুন মুখ চ্যাপ্টারের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবার সুযোগ তৈরি হয়। শুরু থেকেই মুক্তজ্ঞানের চর্চাকে শুধুমাত্র ঢাকা কেন্দ্রীক না রেখে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা ছিল। সে লক্ষ্যে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে আউটরিচ প্রোগ্রাম করার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছি এবং হাতে ধরে অনেক নতুন ভলান্টিয়ারকে চ্যাপ্টারের কাজে সম্পৃক্ত করেছি। এর সুফল হিসেবে ঢাকার বাইরেও আমাদের ভালো বিস্তার রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ঢাকার বাইরে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সম্প্রদায় গঠন আমার বিশেষ অগ্রাধিকারে ছিল এবং এ উদ্যোগে সম্প্রদায় দুইটির সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করেছি।
বাংলাদেশ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও উইকিমিডিয়া আন্দোলনের সাথে জড়িত থেকেছি এবং বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছি। Wikimedia Foundation-এর FDC Advisory Group-এর সদস্য ছিলাম। পরবর্তীতে ফাউন্ডেশনের Funds Dissemination Committee-তে ছিলাম ৫ বছর যার মধ্যে ৩ বছর কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়কালে Wikimedia Foundation-এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অনুদান বিতরণ প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নীতিগত ও কাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলাম। এর বাইরে ইউরোপ ও এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহোযোগীতামূলক কার্যক্রমের সাথেও জড়িত ছিলাম এবং উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন সমমনা সংগঠনের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেছি।
বর্তমানে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি এবং চ্যাপ্টারের কার্যক্রম তদারকির অংশ হিসেবে গভার্নেন্স কমিটিতে সক্রিয় আছি। সংগঠনের নীতিমালা ও পরিচালন পদ্ধতি সহ বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রমে জড়িত আছি। উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের প্রথম গ্রান্ট অনুমোদন ও বাস্তবায়ন সহ বিভিন্ন গ্রান্ট বাস্তবায়নে কাজ করেছি এবং বর্তমানেও গ্রান্টি হিসেবে কাজ করছি।
চ্যাপ্টারের কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করার জন্য অনেকদিন ধরে সারাদেশে স্কুল পর্যায়ে বাংলা উইকিপিডিয়ার পরিচিতি ও ব্যবহার বাড়ানোর জন্য বড় আকারে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। সেই লক্ষ্যে ২০২৬ সাল থেকে উইকিপিডিয়া স্কলার আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি, যা প্রথম বছরে পাইলট আকারে আয়োজন হতে যাচ্ছে এবং সামনের বছরগুলোতে একে জাতীয়পর্যায়ে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে।প্রশ্ন: নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হলে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে উইকিমিডিয়া আন্দোলনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আপনি ভবিষ্যতে কী ধরনের কার্যক্রম, উদ্যোগ বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান তা ব্যাখ্যা করুন।
উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এবং উইকিমিডিয়া আন্দোলনের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে যা সামনে বাস্তবায়ন করতে পারলে সংগঠন হিসেবে আমরা আরো এগিয়ে যেতে পারবো।
উইকিমিডিয়া বাংলাদেশকে দেশের মুক্তজ্ঞান চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে আমাদের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প দরকার। সে লক্ষ্যে উইকিপিডিয়া স্কলার ২০২৬ পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে একে জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত করা আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। স্কুল দিয়ে শুরু হলেও পরে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের ইচ্ছা আছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আমাদের একটা দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক তৈরি হবে যা পরবর্তীতে অন্যান্য প্রোগ্রাম আয়োজনে সহায়তা করবে এবং আমাদের কার্যক্রমের সাথে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করে আমাদের সাথে যুক্ত হতে উৎসাহীত করবে। সব ঠিক থাকলে একসময় উইকিপিডিয়া স্কলারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাবার সম্ভাবনাও রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উইকিমিডিয়া কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়াকে আমি সবসময় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখি। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, এডিট-এ-থন এবং বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নতুন সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্ত জ্ঞানচর্চার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সামনে আরো বেশি করে কাজ করতে হবে। বহু বছর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উইকিক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করেছিলাম, তবে আমাদের লোকবলের স্বল্পতার কারণে ক্লাবগুলোর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা সবসময় ধরে রাখা যায়নি। বর্তমানে নিজস্ব লোকবল থাকায় সে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে, তাই উইকিক্লাবগুলোকে আরো সক্রিয় করার চেষ্টা থাকবে।
ঢাকার বাইরে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের কার্যক্রম সম্প্রসারণ সবসময়ই আমার পরিকল্পনার একটি মৌলিক অংশ। অতীতের মতো রাজধানীকেন্দ্রিকতার বাইরে গিয়ে তৃনমূল পর্যায়ে স্থানীয় কমিউনিটি গড়ে তোলা এবং নিয়মিত আউটরিচ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সারাদেশে উইকিমিডিয়া আন্দোলনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে সমমনা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোলাবরেশনে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহন করা হবে। প্রতিষ্ঠানিক সহযোগীতামূলক সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে মুক্তজ্ঞানের বিস্তারে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্লাটফার্ম হিসেবে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছা আছে।
বাংলাদেশে বড় ও পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করা তুলনামূলকভাবে সহজ এবং সেচ্ছাসেবাভিত্তিক সংগঠনগুলো সাধারণত সেভাবেই কাজ করে থাকে। তবে আমাদের লক্ষ্য সহজ ও সুবিধাজনক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা নয়। বরং দেশের আনাচে-কানাচে অবস্থিত অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরাসরি গিয়ে কাজ করাই আমার অগ্রাধিকার। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উইকিপিডিয়া ও মুক্ত জ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে তাদের শেখার সুযোগ বৃদ্ধি করা আমার একটা বড় লক্ষ্য যাতে তাদের শিক্ষা জীবনে ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।
বাংলা উইকিপিডিয়ায় বিষয়বৈচিত্র্যে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিষয়বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটিকে সাথে নিয়ে অনলাইন ও অফলাইন উভয় ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করার পরিকল্পনা আছে। শুধুমাত্র চ্যাপ্টারকে দিয়ে পরিকল্পনা না করে, কমিউনিটি থেকেও যেনো বিভিন্ন উদ্ভাবনী পরিকল্পনা আসতে পারে এবং বাস্তবায়ন হয় সে লক্ষ্যে কমিউনিটিকে সবসময় সমর্থন অগ্রাধিকারে থাকবে। ইতিহাস, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, স্থানীয় ঐতিহ্যসহ কম প্রতিনিধিত্বশীল ও উপেক্ষিত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে থিমভিত্তিক এডিট-এ-থন, প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া প্রচলিত কার্যক্রমের বাইরে নতুন নতুন পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প আয়োজনে গুরুত্ব দেয়া হবে।
শুরু থেকেই উইকিমিডিয়া বাংলাদেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা আমরা সযত্নে ধরে রেখেছি। এই সংগঠনকে কখনোই ব্যক্তি-কেন্দ্রিক হতে দেওয়া হয়নি; বরং সবসময় ভালো কাজ ও নীতিগত অবস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে লক্ষ্য থাকবে এই সংস্কৃতি যেন ভবিষ্যতেও অটুট থাকে তা নিশ্চিত করা এবং সেই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলা। আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর সাকসেশন প্ল্যানের যে ঘাটতি দেখা যায়, উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ সেখানে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। সচেতনভাবে স্বজনপ্রীতি ও সংগঠনকে দুর্বল করে এমন সকল কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার যে নীতি আমরা অনুসরণ করে আসছি, তা যেন আগামী বহু বছর বজায় থাকে এবং শুধুমাত্র ভালো কাজই যেন সংগঠনে মূল্যায়নের একমাত্র নির্ণয়ক হয় সে ধারা অব্যহত রাখা হবে।
সবশেষে, উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের কার্যক্রমকে কেবল উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য উইকিমিডিয়া প্রকল্পের প্রচার ও প্রসারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে, বাংলাদেশে একটি জ্ঞানভিত্তিক, তথ্যসমৃদ্ধ ও সচেতন সমাজ গঠনে আমাদের সংগঠন যাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে তা নিশ্চিত করাই আমার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। মুক্ত জ্ঞান ও শেখার সংস্কৃতি সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশকে একটি দায়িত্বশীল, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী ও সমাজমুখী সংগঠন হিসেবে এগিয়ে নিতে সবার সাথে মিলে কাজ করতে চাই।