বিষয়বস্তুতে চলুন

নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচন ২০২৬/প্রার্থী/আবরারুল হাসান

উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ থেকে

আবরারুল হাসান
আবরারুল হাসান
Abrarul Hasan
সদস্য নম্বর: WMBD-RM-107
সাধারণ সদস্য
খাত্তাব হাসান

প্রার্থীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আমি আবরারুল হাসান, উইকিতে ব্যবহারকারী নাম খাত্তাব হাসান। ২০১৫ সাল থেকে উইকি জগতের সাথে যুক্ত। দীর্ঘ এক দশকের এই পথচলায় বাংলা উইকিপিডিয়ায় ১১ হাজারের বেশি এবং বৈশ্বিকভাবে ১৮ হাজারের বেশি সম্পাদনা করার সুযোগ হয়েছে। আমি বাংলা উইকিপিডিয়ায় ছয় শতাধিক নিবন্ধ তৈরি করেছি। বাংলা উইকিপিডিয়ার সাময়িকী "উইকিপত্রিকা" শুরুর সময় থেকে বেশ কিছুকাল আমি প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। এছাড়া, বর্তমানে আমি বাংলা উইকিউক্তির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ব্যক্তিগত জীবনে আমি পাকিস্তানের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস (PIEAS) বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র। দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে আমি উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখতে চাই।

প্রার্থী কখনো উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের নির্বাহী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেননি।

প্রশ্ন: উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে উইকিমিডিয়া আন্দোলনে অনলাইন ও অফলাইনে আপনি অতীতে এবং বর্তমানে কী কী ভূমিকা পালন করেছেন? পূর্বে কোনো দায়িত্ব বা নেতৃত্বমূলক অবস্থান থাকলে তা উল্লেখ করুন।

আমার মতে, একজন উইকিমিডিয়ানের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সক্রিয়তা এবং গঠনমূলক চিন্তাভাবনা। বাংলা উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য প্রকল্পের বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী আলোচনা, প্রস্তাবনা এবং সংকট নিরসনে আমি নিয়মিত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছি। সঠিক ইনপুট দেওয়া এবং যৌক্তিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সচেষ্ট থাকি।

এছাড়া যদি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আসে, আমি ২০২৪ সালের বাংলা উইকি সম্মেলনে আমি অনুষ্ঠান বিন্যাস দলের সদস্য ছিলাম এবং 'হ্যাকথন' পরিচালনা করেছি। এছাড়া উইকিউক্তির প্রশাসকের দায়িত্ব দীর্ঘ ৩ বছরের বেশি সময় যাবত পালন করে আসছি। এছাড়া ব্যতিক্রম উদাহরণ দিতে গেলে, বাংলা উইকিপিডিয়ার সাময়িকী উইকিপত্রিকা শুরুর থেকে প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি।

প্রশ্ন: নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হলে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে উইকিমিডিয়া আন্দোলনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আপনি ভবিষ্যতে কী ধরনের কার্যক্রম, উদ্যোগ বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান তা ব্যাখ্যা করুন।

নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে আমি চেষ্টা করবো, উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের উইকিমিডিয়া আন্দোলনে আমার মূল লক্ষ্য থাকবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আনার। যেহেতু আমি আগে থেকে অনলাইনের বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়ে অভ্যস্ত, সেই অভিজ্ঞতাকে আমি কাজে লাগাতে চাই।

এছাড়া আমি সাধারণ সদস্য ও নির্বাহী পরিষদের মধ্যকার সম্পর্ক ও প্রক্রিয়াগুলিকে আরও উন্নত ও সহজতর করতে সচেষ্ট থাকবো। ২০২৪ সালের বাংলা উইকিসম্মেলনে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার সময়ে আমার পরিকল্পনা ছিল, অনুমোদিত কুমিল্লা সম্প্রদায়কে সক্রিয়তর করা। কিন্তু খুব দ্রুতই পড়াশোনার জন্য বিদেশে অবস্থান করার পরিকল্পনা নেই; যেহেতু সেখানে অফলাইনে কাজও প্রয়োজন ছিল, তাই সেই কাজে হাত দেইনি। এখন আমার পরিকল্পনা হচ্ছে, এই নির্বাহী পরিষদে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আমি উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ ও সম্প্রদায়ের সাথে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা।


সদস্যদের প্রশ্ন

[সম্পাদনা]

ROCKY-এর প্রশ্ন

[সম্পাদনা]

আপনি আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতার যে বর্ননা দিয়েছেন তার সবই বলতে গেলে অনলাইন ভিত্তিক। কিন্তু নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের অনেক অফ-উইকি কার্যক্রম তদারকি করতে হয়, যেখানে অফ-উইকি কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে যা অনেক সময় উপযুক্ত সিধান্ত গ্রহণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে, সেক্ষেত্রে বিষয়গুলো আপনি কিভাবে মোকাবেলা করবেন?

এছাড়া আপনি বলেছেন আপনি সাধারণ সদস্য ও নির্বাহী পরিষদের মধ্যকার সম্পর্ক ও প্রক্রিয়াগুলিকে আরও উন্নত ও সহজতর করতে সচেষ্ট থাকবেন, সেটা কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলে ভালো হয়।--রকি (আলাপ) ১১:৩৮, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ (বিএসটি)[উত্তর দিন]

ধন্যবাদ রকি ভাই, বিষয়টি নিয়ে আলাপ তোলার জন্য। আমি বিষয়টি হয়তো কিছুটা সংক্ষেপে প্রকাশ করেছি। আপনার পর্যবেক্ষণ সঠিক যে, আমার কার্যক্রমের বড় একটি অংশ অনলাইন ভিত্তিক। তবে উইকিমিডিয়া আন্দোলনের মূল ভিত্তি যেহেতু অনলাইন, তাই দীর্ঘ ১০ বছরের এই অভিজ্ঞতা আমাকে সংগঠনের মৌলিক বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করেছে।
অফ-উইকি কাজের ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা কেবল শুরুর দিকে হলেও, ২০২৪ সালের উইকি সম্মেলনে 'অনুষ্ঠান বিন্যাস দল' এবং বিশেষ করে 'হ্যাকাথন' লিড করার বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ অফলাইন ও সাংগঠনিক। সেখানে আমাকে পরিকল্পনা থেকে শুরু করে মানুষের সাথে আলোচনা ও হ্যাকাথনের কার্যক্রম ও সমন্বয়ের বিষয়গুলো তদারকি করতে হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে একটি দল পরিচালনা করতে হয়। আমি মনে করি, শেখার প্রক্রিয়া সবসময় চলমান। কিন্তু আমার উইকি-অভিজ্ঞতা আমাকে নির্বাহী পরিষদের জটিল সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে যথেষ্ট পরিণত করেছে।
দ্বিতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, অনেক সময় সাধারণ সদস্যরা নিজেদের সংগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন বোধ করেন। আমি মনে করি, নির্বাহী পরিষদ এবং সাধারণ সদস্যদের সম্পর্ক আরও জোরালো ও সরাসরি হওয়া উচিত। এজন্য আমার কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে:
  1. মিটিং, সভা বা পর্যালোচনা: কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের আগে এবং পরে আমি নিয়মিত সদস্যদের সাথে অনলাইন আলোচনা বা পর্যালোচনা মিটিংয়ের আয়োজন করতে চাই, যাতে সবার মতামত প্রতিফলিত হয়।
  2. প্রক্রিয়া সহজ করা: সদস্যপদ নবায়ন বা সদস্যদের সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য প্রশাসনিক কাজগুলো যেন আরও সহজ ও স্মুথ (মসৃণ?) হয়, সে ব্যাপারে আমি টেকনিক্যাল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম করতে চেষ্টা করব।
  3. আঞ্চলিক সংযোগ: উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের আওতাভুক্ত স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাদের সক্রিয় করার জন্য তদারকি ও পর্যালোচনা মিটিং পরিচালনা করার পরিকল্পনা আমার রয়েছে।
আমি বিশ্বাস করি, দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে আমি উইকিমিডিয়া বাংলাদেশকে আরও গতিশীল করতে পারবো। খাত্তাব হাসান (আলাপ) ১১:৩৫, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ (বিএসটি)[উত্তর দিন]
আপনার উত্তরের জন্য ধন্যবাদ। শুধু একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করতে চাই, সকল সিধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসির সদস্যদের চ্যাপ্টারের সদস্যদের কাছে জানতে যাওয়া বা জানানো আবশ্যকীয় না বা উচিতও না (কোন ক্ষেত্রে যেতে হবে বা কিভাবে জানাতে হবে তা গঠনতন্ত্রে উল্লেখ আছে), সদস্যগণ ভোটের মাধ্যমে ইসি সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে ২ বছরের জন্য প্রয়োজনীয় সিধান্ত গ্রহণের ম্যানডেট দিয়েই দেয়, ইসির কাজ সেই দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করা। তবে হ্যাঁ কার্যক্রমের আপডেট নিয়মিত দেয়া বা একটা কাঠামোর মধ্যে আনতে পারলে ভালো হয়। শুভকামনায়, রকি (আলাপ) ১৫:৩০, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ (বিএসটি)[উত্তর দিন]
@ROCKY ধন্যবাদ রকি ভাই, পয়েন্টটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য। আপনার সাথে আমি একমত যে, প্রতিটি ক্ষেত্রে সদস্যদের কাছে যাওয়া সাংগঠনিকভাবে অবাস্তব। আবার, ইসির স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকাটাও একটি জরুরি গুণ। আমার আগের উত্তরে আমি মূলত ট্রান্সপারেন্সি এবং সদস্যদের সাথে এঙ্গেজমেন্ট বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলাম।
প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য সদস্যদের মন্তব্য নিতে চাওয়াটা আসলেই একটি অবাস্তব সাংগঠনিক অবস্থান হতো। আমি মূলত কার্যক্রমের নিয়মিত আপডেট দেওয়া এবং আলোচনার ক্ষেত্র উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার কথাই বলতে চেয়েছি। আপনার এই পর্যবেক্ষণ আমাকে আরও বাস্তবসম্মতভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে। ধন্যবাদান্তে, খাত্তাব হাসান (আলাপ) ০৪:৩৪, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ (বিএসটি)[উত্তর দিন]